1. admin@alordiganto.com : admin :
কাবাডি খেলার উৎপত্তি ও ইতিহাস - আলোর দিগন্ত
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

কাবাডি খেলার উৎপত্তি ও ইতিহাস

আলোর দিগন্ত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২
  • ৭৮ বার পঠিত

Tags: , , ,

স্পোর্টস ডেস্ক :
বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই একটি জাতীয় খেলা আছে। ইংরেজদের জাতীয় খেলা ক্রিকেট, আমেরিকানদের জাতীয় খেলা বেস বল। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হাডুডু বা কাবাডি।

কাবাডি বা হাডুডু এশিয়া মহাদেশের গ্রীষ্মকালীন দেশ সমূহের একটি জনপ্রিয় খেলা। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি প্রাচীন খেলা। ভারতীয় উপমহাদেশে অঞ্চল ভিত্তিক বিভিন্ন নামে এ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার পোশাকি নাম কাবাডি। কিছু দিন আগে পর্যন্ত হাডুডু খেলা ছিল বিনোদনের অন্যতম উৎস। নিয়মিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাবাডি খেলার আয়োজন করা হত। খেলায় বিজয়ীদেরকে পুরস্কার স্বরূপ ষাঁড়, খাসি, পিতলের কলসি কিংবা সোনা-রূপার মেডেল উপহার দেওয়া হতো। এটি একটি দলীয় খেলা।

ধারণা করা হয় যে প্রাগৈতিহাসিক যুগে যখন নিজেদের ভিতর বিভিন্ন বিসয় নিয়ে প্রতিযোগিতা হত,তখন এই খেলার উৎপত্তি হয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়াতে কাবাডি প্রচলিত থাকলেও এর মূল উৎপত্তি স্থল পাঞ্জাব।
কাবাডি খেলার উৎপত্তি সম্পর্কে প্রচলিত আরেকটি ধারণা হচ্ছে এটি আরম্ভ হয় তামিলনাড়–তে। দুটি বাচ্চা ছেলের ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা থেকে এর ধারণা পাওয়া যায়, যদিও দম ধরে রাখার বিষয়টি তাতে পরে যুক্ত হয়। এ খেলা ভারত ও পাকিস্তানে কাবাডি, বাংলাদেশে হাডুডু, নেপালে ডুডু, শ্রীলংকায়, গুডুগুডু, থাইলান্ডে থিকাব ও মালয়েশিয়ায় ছি গুডু গুডু নামে প্রচলিত ছিল।

এ খেলায় সফলতার পূর্বশর্ত হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক ক্ষিপ্রতা, পেশীর ক্ষিপ্রতা, ফুসফুসের শক্তি ও সহনশীলতা, দ্রুত চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও তা প্রয়োগের সামর্থ্য এবং সর্বোপরি প্রতিপক্ষের কৌশল ও মনোভাব অনুধাবনের যোগ্যতা।

কাবাডি কোর্টের সঠিক মাপ হলো ছেলেদের জন্য ১২ দশমিক ৫ মি বাই ১০ মি. এবং মেয়েদের জন্য ১১ মি বাই ৮ মি.। প্রতি দলে ৭ জন খেলোয়াড় থাকে এবং খেলার সময় প্রতি অর্ধেক ২০ মিনিট করে ৪০ মিনিট। মাঝখানে ৫ মিনিটের বিরতি। একজন রেফারি খেলা পরিচালনা করেন। তাকে সহায়তা করেন দুজন সাইটম্যান। পয়েন্ট গণনা করার জন্য একজন নিযুক্ত থাকেন।
একটি ঐক্যবদ্ধ নিয়মে খেলাটি প্রচলনের জন্য ১৯৫০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে জাতীয় কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৫৩ সালে এই ফেডারেশন কাবাডি খেলার নিয়মকানুন প্রণয়ন করে এবং তা প্রকাশিত হয়। ১৯৬০ সালে কিছু নিয়মকানুন সংশোধন ও সংযোজন হয়। ১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম কাবাডি টেস্ট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮৭ সালে এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। এরই সূত্র ধরে ১৯৮০ সালে প্রথম এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল অংশগ্রহণ করে। ভারত চ্যাম্পিয়ন ও বাংলাদেশ রানার্স-আপ হয়।

স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে পশ্চিম বাংলার আসানসোলে ভারতের জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ থেকে কাজী আনিছুর রহমান ও আমীর হামজা আসানসোলে যান। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৮০ সালে ভারতের এনআইএস থেকে কাবাডি খেলার ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে আবদুল হক বাংলাদেশে কাবাডি খেলার কলাকৌশল ও নিয়মকানুন প্রবর্তন করেন।
বাংলাদেশের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে কাবাডি খেলা নিয়মিত ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯০ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে কাবাডি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে এই খেলাকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় উন্নীত করা হয়। এরপর থেকে কাবাডি খেলা নিয়মিত ইভেন্ট হিসেবে এশিয়ান গেমসে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কাবাডি খেলা কয়েকটি দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, জাপান, থাইল্যান্ড, ইরান, মালয়েশিয়া ও কোরিয়া অন্যতম।

এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিল এই খেলাটিকে নিয়মিত ইভেন্ট হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

নামাজের সূময়সুচি :

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৬
  • ১১:৫৩
  • ৪:১১
  • ৫:৫৬
  • ৭:০৯
  • ৫:৪৭
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ আলোর দিগন্ত
Theme Customized By Shakil IT Park